জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী।
রাজবাড়ী জেলা শহর ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র চলাচল ও পার্কিংয়ের ফলে শহরটি এখন তীব্র যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এই যানবাহনগুলো এখন ‘বিষফোড়া’ বা ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
শহরের শ্রীপুর বাজার, বড়পুল, পান্না চত্বর এবং বড় বাজার এলাকায় যানজট সবচেয়ে বেশি। বড় বাজারের ৫ তলা থেকে রেলগেট পার হতে সময় লাগছে আধা ঘণ্টারও বেশি।
পৌরসভায় নিবন্ধিত ইজিবাইক ও রিকশার সংখ্যা সীমিত হলেও বাস্তবে চলাচল করছে ১০ হাজারেরও বেশি। প্রতিদিন আশপাশের উপজেলা থেকে কয়েক হাজার অবৈধ ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
জেলা পুলিশ ও বিআরটিএ-র তথ্যমতে, গত এক বছরে জেলায় ৩৯ থেকে ৫২ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, যার অধিকাংশেরই কারণ এই ব্যাটারিচালিত যান ও অদক্ষ চালক।
ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিদিন এই বিশাল সংখ্যক যান চার্জ দিতে প্রায় ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যা সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি জ্যোতি শঙ্কর ঝন্টু বলেন, “শহরটি ছোট হলেও যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। প্রশাসন ও পৌরসভার উচিত দ্রুত স্ট্যান্ড নির্ধারণ ও সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা।”
পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলী জানান, নিবন্ধিত যানের বাইরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ যান চলায় যানজট নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
জেলা ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, অদক্ষ চালক ও পার্কিং সমস্যার কারণে ভোগান্তি বাড়ছে। দরিদ্র চালকদের কথা ভেবে সবসময় কঠোর হওয়া সম্ভব হয় না, তবে পৌরসভাকে রাস্তার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
শহরবাসী ও চালকদের মতে, যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করতে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড স্থাপন এবং উপজেলা থেকে আসা অবৈধ যানবাহনের প্রবেশ সীমিত করলে রাজবাড়ীর যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!