ওয়াসিম ফারুক : মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ২০০ বছরের পুরোনো সরকারি রাস্তা ও খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার বাসুদিয়া গ্রামে চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ির আঙিনা বড় করতে গিয়ে এই ঐতিহাসিক রাস্তা ও 'ফুলকুচি-মিঠুসার খাল' দখলের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে এই দখলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষের তোপের মুখে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, এই রাস্তাটি গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের দুই শতাধিক মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ। স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও বাজারে যাওয়ার জন্য দীর্ঘকাল ধরে মানুষ এই রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ রাস্তার একাংশ নিজের বাড়ির আঙিনায় অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন এবং পাশের খাল ভরাট করে যাতায়াতের বিকল্প রাস্তা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি যাতায়াত বাধাগ্রস্ত করতে রাস্তার মুখে খুঁটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করা হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরিফুজ্জামান লাভলু অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে সরকারি সম্পদ দখলের চেষ্টা করছেন, যা গ্রামবাসী আর মেনে নেবে না।
জানা গেছে, অভিযুক্ত এই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের মামলাও। ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর ‘ডিপজল হত্যা’ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর বর্তমানে অস্থায়ী জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় এসে তিনি পুনরায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন। আজকের ঘটনার সময় তিনি আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা করলেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের মুখে তিনি তড়িঘড়ি করে এলাকা ছাড়েন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, তিনি কোনো রাস্তা বন্ধ করছেন না, বরং খালের পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য স্থান পরিবর্তন করে দিচ্ছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু জানিয়েছেন, দখল প্রক্রিয়ার বিষয়টি প্রশাসন অবগত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে চেয়ারম্যানকে সব কাজ বন্ধ করে রাস্তাটি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাস্তা ও খাল পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে না দিলে প্রশাসন থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!